রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার (১৮১১–১৮৭৪)
১. রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার ১৮১১ সালের ২৫ মার্চ ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন যমজ ভাইয়ের সঙ্গে জন্ম নেওয়া সন্তান। পিতা কর্নেল ড্যানিয়েল মেসিঞ্জার ছিলেন টুপি ব্যবসায়ী ও সামরিক ব্যক্তিত্ব। মাতা সুসানা হিউজ হিনকলে ছিলেন একজন জাহাজ অধিনায়কের কন্যা। পরিবারটি ছিল সম্ভ্রান্ত।
২. মেসিঞ্জারের যমজ ভাইয়ের নাম ছিল টমাস হিউজ হিনকলে মেসিঞ্জার। তাঁদের তিন ভাই ও চার বোন ছিল। পিতা বোস্টনে টুপির দোকান চালাতেন এবং সামরিক কোম্পানির নেতৃত্ব দিতেন। এই পারিবারিক পরিবেশ তাঁর শৈশবে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলে।
৩. মেসিঞ্জার বোস্টন ল্যাটিন স্কুল এবং বোস্টন হাই স্কুলে শিক্ষা লাভ করেন। এখানে তিনি ল্যাটিন ও গ্রিক সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হন। শাস্ত্রীয় সাহিত্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ এই সময় থেকেই গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে হোরেসের কাব্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
৪. শিক্ষা শেষ করে মেসিঞ্জার ব্যবসায়িক জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে বহু বছর কাটান। তাঁর ভাই ড্যানিয়েলের মার্চেন্ট কাউন্টিং-হাউসে কাজ করেন। এই সময় তিনি ব্যবসা ও সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন।
৫. নিউ ইয়র্কে বসবাসকালে মেসিঞ্জার সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান। তিনি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়ে ওঠেন। উচ্চবিত্ত সমাজে তিনি প্রিয়পাত্র ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার ও কানেকটিকাটে বাস করেন।
৬. মেসিঞ্জারের কবিতা রচনার সময়কাল ছিল ১৮২৭ থেকে ১৮৩২ সালের মধ্যে। তিনি কখনো পেশাদার কবি হওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর সব কবিতা বেনামে প্রকাশিত হয়। তিনি শুধু অপেশাদার হিসেবে লিখতেন।
৭. তাঁর কবিতাগুলো নিউ ইয়র্কের “American” পত্রিকায় বেনামে প্রকাশিত হয়। তিনি কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেননি। তবু তাঁর লেখা সমকালীন পাঠক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে হোরেস-শৈলীর মার্জিত ভাষা তাঁকে আলাদা করে তোলে।
৮. মেসিঞ্জার হোরেস-শৈলীর কাব্য রচনায় দক্ষ ছিলেন। তাঁর কবিতায় প্রতিফলন, দার্শনিকতা ও গ্রাম্য জীবনের সরল আনন্দ ফুটে ওঠে। তিনি রোমান কবি হোরেসের মতোই জীবনের ছোট ছোট সুখের প্রশংসা করেছেন। এটি তাঁর বিশেষ শৈলী হিসেবে পরিচিত।
৯. মেসিঞ্জারের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “Give Me the Old” বা “A Winter Wish”। এটি ১৮৩৮ সালে নিউ ইয়র্ক “American” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি কাস্টিলের রাজা আলফোনসোর বিখ্যাত উক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত।
১০. কবিতাটিতে পুরোনো মদ, পুরোনো কাঠ, পুরোনো বই এবং পুরোনো বন্ধুদের প্রশংসা করা হয়েছে। এটি হোরেসের অনুকরণে লেখা মার্জিত গ্রাম্য কাব্য। কবিতাটি রুফাস গ্রিসওল্ডের “The Poets and Poetry of America” গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১১. মেসিঞ্জার কবি ফিটজ-গ্রিন হ্যালেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। হ্যালেকের সঙ্গে সাহিত্যিক আলোচনা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাঁর কবিতায় বন্ধুত্বের যে উষ্ণতা দেখা যায়, তা এই বন্ধুত্বের প্রভাবেই সম্ভব হয়েছে।
১২. মেসিঞ্জার কখনো নিজেকে পেশাদার কবি বলে দাবি করেননি। তিনি সবসময় অপেশাদার হিসেবে লিখতেন। তবু তাঁর কবিতার মার্জিত শৈলী ও শাস্ত্রীয় অনুভূতি তাঁকে সমকালীন সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে।
১৩. তাঁর কবিতা রুফাস উইলমট গ্রিসওল্ডের “The Poets and Poetry of America” (১৮৪২)-এ স্থান পায়। এটি তাঁর সাহিত্যিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কবিতাটি পরবর্তীকালে বিভিন্ন সংকলনে বারবার উদ্ধৃত হয়েছে।
১৪. ব্যবসায়িক জীবনের পর মেসিঞ্জার নিউ লন্ডন, নিউ হ্যাম্পশায়ারে বাস করেন। ১৮৫৪ সালে তিনি সেখানে ছিলেন। পরে তিনি কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে চলে যান। এই সময় তিনি শান্ত ও নির্জন জীবনযাপন করেন।
১৫. মেসিঞ্জার সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। তিনি একজন পরিশীলিত ও বহুমুখী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। উচ্চবিত্ত সমাজে তাঁর অনেক বন্ধু ছিল। তাঁর কবিতায় এই সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়।
১৬. মেসিঞ্জার ১ অক্টোবর ১৮৭৪ সালে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কবিতা, বিশেষ করে “Give Me the Old”, বিভিন্ন সংকলনে স্থান পায় এবং পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৭. মেসিঞ্জারের কবিতা আজও হোরেস-শৈলীর মার্জিত গ্রাম্য কাব্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আধুনিক অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব।
১৮. তাঁর কবিতায় পুরোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা, বন্ধুত্বের উষ্ণতা ও জীবনের সরল আনন্দ ফুটে উঠেছে। এটি হোরেসের চিন্তাধারার সঙ্গে মিলে যায়। তিনি জীবনকে উপভোগ করার একটি শান্ত ও মার্জিত দর্শন তুলে ধরেছেন।
১৯. মেসিঞ্জার কখনো ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেননি। তবু তাঁর একটি কবিতাই তাঁকে সাহিত্য ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে। তিনি সেইসব অপেশাদার কবিদের প্রতিনিধি, যাঁরা নামের চেয়ে কাব্যের সৌন্দর্য দিয়ে পাঠকের হৃদয় জয় করেছেন।
২০. রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার প্রারম্ভিক আমেরিকান সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর হোরেস-শৈলীর কাব্য আজও পাঠককে জীবনের সরলতা ও বন্ধুত্বের মূল্য শেখায়। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের শিল্পী, যিনি কখনো নিজেকে বড় করে দেখাননি।
রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার (১৮১১–১৮৭৪)
ভূমিকা
রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার ছিলেন উনিশ শতকের প্রারম্ভিক আমেরিকান সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি, যদিও তিনি কখনো পেশাদার লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি। তিনি ছিলেন একজন অপেশাদার কবি, যাঁর কবিতা মূলত ১৮২৭ থেকে ১৮৩২ সালের মধ্যে রচিত। তাঁর বিখ্যাত কবিতা “Give Me the Old” (বা “A Winter Wish”) হোরেসের শৈলীতে লেখা মার্জিত গ্রাম্য কাব্যের উৎকৃষ্ট নমুনা। এতে পুরোনো মদ, পুরোনো কাঠ, পুরোনো বই এবং পুরোনো বন্ধুদের প্রশংসা করা হয়েছে—যা রোমান কবি হোরেসের চিন্তাধারা ও শৈলীর সঙ্গে গভীর সাদৃশ্য বহন করে। রুফাস উইলমট গ্রিসওল্ডের “The Poets and Poetry of America” (১৮৪২)-এ তাঁর কবিতা স্থান পায় এবং তিনি সমকালীন সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন।
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার ২৫ মার্চ ১৮১১ সালে ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর যমজ ভাই ছিলেন টমাস হিউজ হিনকলে মেসিঞ্জার। পিতা কর্নেল ড্যানিয়েল মেসিঞ্জার (১৭৬৮–১৮৪৬) ছিলেন একজন টুপি ব্যবসায়ী ও সামরিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বোস্টনে টুপির দোকান চালাতেন এবং একটি ইউনিফর্মধারী সামরিক কোম্পানির নেতৃত্ব দিতেন। মাতা সুসানা হিউজ হিনকলে (১৭৭২–১৮৪২/৪৩) ছিলেন কেপ কডের একজন জাহাজ অধিনায়কের কন্যা। পরিবারটি ছিল সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত। রবার্টের তিন ভাই ও চার বোন ছিল।
শিক্ষা
মেসিঞ্জার বোস্টন ল্যাটিন স্কুল এবং বোস্টন হাই স্কুলে শিক্ষা লাভ করেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁকে শাস্ত্রীয় সাহিত্য, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। হোরেসের কাব্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ সম্ভবত এই শিক্ষার ফলেই গড়ে ওঠে। তিনি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন, যা পরবর্তীকালে তাঁর কবিতার শৈলীতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়িক জীবন
শিক্ষা শেষ করে মেসিঞ্জার ব্যবসায় জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে বহু বছর কাটান। তাঁর ভাই ড্যানিয়েলের মার্চেন্ট কাউন্টিং-হাউসে কাজ করেন। এই সময় তিনি নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়িক ও সামাজিক মহলে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়ে ওঠেন এবং উচ্চবিত্ত সমাজের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে তিনি নিউ লন্ডন, নিউ হ্যাম্পশায়ার (১৮৫৪) এবং স্ট্যামফোর্ড, কানেকটিকাটে বাস করেন।
সাহিত্যিক জীবন ও কবিতা
মেসিঞ্জার কখনো পেশাদার কবি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেননি। তাঁর কবিতাগুলো ১৮২৭ থেকে ১৮৩২ সালের মধ্যে রচিত এবং নিউ ইয়র্কের “American” পত্রিকায় বেনামে প্রকাশিত হয়। তিনি কখনো কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেননি। তাঁর কবিতা ছিল অপেশাদার স্তরের, কিন্তু শৈলীগত দিক থেকে অত্যন্ত মার্জিত। তিনি হোরেসের অনুকরণে লিখতেন—প্রতিফলনমূলক, দার্শনিক, গ্রাম্য জীবন ও পুরোনো জিনিসের প্রশংসামূলক। তাঁর কবিতায় শাস্ত্রীয় রোমান কবি হোরেসের মতোই জীবনের সরল আনন্দ, বন্ধুত্ব, পুরোনো বই ও স্মৃতির প্রতি আকর্ষণ ফুটে ওঠে।
তিনি কবি ফিটজ-গ্রিন হ্যালেকের বন্ধু ছিলেন। হ্যালেকের সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক আলোচনা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
বিখ্যাত কবিতা: “Give Me the Old” / “A Winter Wish”
মেসিঞ্জারের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “Give Me the Old” (পরবর্তীকালে “A Winter Wish” নামে পরিচিত)। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২৬ এপ্রিল ১৮৩৮ সালে নিউ ইয়র্ক “American” পত্রিকায়। কবিতাটি কাস্টিলের রাজা আলফোনসোর বিখ্যাত উক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত: “Old wine to drink, old wood to burn, old books to read, and old friends to converse with.”
কবিতায় তিনি পুরোনো মদ (Teneriffe-এর আঙুরের), পুরোনো কাঠ (বীচ, পাইন, সিডার, পিট), পুরোনো বই (হোমার, হোরেস, অ্যানাক্রিয়ন, স্পেনসার, বার্টন) এবং পুরোনো বন্ধুদের (ওয়াল্টার, ফ্রেড, উইল এবং তাঁর “alter ego” স্টুয়ার্ট মেইটল্যান্ড) প্রশংসা করেছেন। এটি হোরেস-শৈলীর ক্লাসিক্যাল মার্জিত কাব্য—প্রতিফলনমূলক, আনন্দময়, জীবনের সরল সুখের উদযাপন। কবিতাটি গ্রিসওল্ডের “The Poets and Poetry of America”-এ অন্তর্ভুক্ত হয় এবং আমেরিকান সাহিত্য সংকলনে বারবার উদ্ধৃত হয়। এটি তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতির মূল ভিত্তি।
পরবর্তী জীবন
ব্যবসায়িক জীবনের পর মেসিঞ্জার সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি আরও বেশি মনোনিবেশ করেন। তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার ও কানেকটিকাটে শান্ত জীবনযাপন করেন। সাহিত্যিক মহলে তিনি একজন পরিশীলিত ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর কবিতা কখনো ব্যাপক প্রচার পায়নি, কারণ তিনি বেনামে লিখতেন এবং কোনো সংকলন প্রকাশ করেননি। তবু সমকালীন সমালোচকরা তাঁর হোরেস-অনুকরণমূলক শৈলীর প্রশংসা করেন।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
রবার্ট হিনকলে মেসিঞ্জার ১ অক্টোবর ১৮৭৪ সালে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কবিতা, বিশেষ করে “Give Me the Old”, বিভিন্ন সংকলনে স্থান পায় এবং আজও পঠিত হয়।
তিনি আমেরিকান সাহিত্যের একজন গৌণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর কবিতা প্রমাণ করে যে প্রারম্ভিক আমেরিকান কবিরা কীভাবে ইউরোপীয় শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য (বিশেষ করে হোরেস) থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজস্ব সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর “পুরোনো জিনিসের প্রশংসা” আজকের পাঠককেও জীবনের সরলতা, বন্ধুত্ব ও স্মৃতির মূল্য বোঝায়। মেসিঞ্জার ছিলেন সেইসব অপেশাদার কবিদের একজন, যাঁরা নামের চেয়ে কাব্যের মার্জিত সৌন্দর্য দিয়ে সাহিত্য ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।
তাঁর কবিতা আজও “Horace-style country verse”-এর একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।
