সাহিত্য ও সাহিত্যিক

Jones Very (1813–1880) – American transcendentalist mystic who claimed his sonnets were dictated by the divine.

 

Jones Very (1813–1880)

জোন্স ভেরি (১৮১৩–১৮৮০)

১. জোন্স ভেরি ১৮১৩ সালের ২৮ আগস্ট ম্যাসাচুসেটসের সেলেমে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয় সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। পিতা-মাতা প্রথম চাচাতো ভাই-বোন ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহিত ছিলেন না। বাবা ছিলেন জাহাজের অধিনায়ক। শৈশবে তিনি সমুদ্রযাত্রায় অনেক সময় কাটান।

২. বাবার মৃত্যুর পর মা লিডিয়া ভেরির প্রভাবে জোন্স পরিবারের দায়িত্ব নেন। ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে কাজ শুরু করেন। পরে স্কুলের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় তিনি দার্শনিকদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং মায়ের নাস্তিক্যবাদী মত থেকে দূরে সরে আসেন।

৩. ১৮৩৪ সালে হার্ভার্ড কলেজে ভর্তি হন। ১৮৩৬ সালে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক হন। কমেন্সমেন্টে “Individuality” বিষয়ে ভাষণ দেন। হার্ভার্ডে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ ও গ্যেটের দ্বারা প্রভাবিত হন। প্রথম কবিতা সেলেম অবজারভারে প্রকাশিত হয়।

৪. স্নাতকের পর হার্ভার্ডে গ্রিক ভাষার টিউটর নিযুক্ত হন। একই সঙ্গে ডিভিনিটি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন জায়গায় যাজকত্ব করেন। ১৮৩৭ সালে সেলেম লিসিয়ামে মহাকাব্য বিষয়ে বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃতা তাঁকে এমারসনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

৫. ১৮৩৭ সাল থেকে ভেরির জীবনে গভীর ধর্মীয় অভিজ্ঞতা শুরু হয়। তিনি অনুভব করেন যে তাঁর মধ্যে এক “নতুন ইচ্ছা” কাজ করছে যা তাঁর নিজের নয়। তিনি বিশ্বাস করতেন পবিত্র আত্মা তাঁকে পরিচালিত করছে। এ সময় তিনি প্রচুর সনেট রচনা করেন।

৬. ভেরি দাবি করতেন যে তাঁর সনেটগুলো দিব্য অনুপ্রেরণায় রচিত। তিনি বলতেন, “আপনি আমার কথা শুনছেন না, শুনছেন পবিত্র আত্মার শিক্ষা।” তিনি নিজেকে কেবল বাহক মনে করতেন। এই দাবি তাঁকে সমকালীনদের কাছে রহস্যময় ও বিতর্কিত করে তোলে।

৭. ১৮৩৮ সালে ভেরি নিজেকে “দ্বিতীয় আগমন” বলে ঘোষণা করেন। তিনি অন্যদের “পবিত্র আত্মা ও অগ্নি দ্বারা বাপ্তিস্ম” দিতে শুরু করেন। হার্ভার্ডে তাঁর আচরণের জন্য তাঁকে টিউটরশিপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এটি তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সংকটকাল।

৮. ১৮৩৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে ম্যাকলিন অ্যাসাইলামে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক মাস থাকেন। হাসপাতালে তিনি Hamlet নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন এবং রোগীদের শেক্সপিয়র পড়ান। মুক্তির পরও তিনি তাঁর দিব্য দাবি ত্যাগ করেননি।

৯. এমারসন ভেরির প্রতিভাকে স্বীকার করেন এবং তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি বলেন, “এমন মন হারিয়ে যেতে পারে না।” ১৮৩৮ সালে এমারসন ভেরিকে কনকর্ডে আমন্ত্রণ জানান এবং ট্রান্সেন্ডেন্টাল ক্লাবের সভায় নিয়ে যান। এমারসন তাঁর মনকে “গভীরভাবে সুস্থ” বলে মনে করতেন।

১০. ১৮৩৯ সালে এমারসন সম্পাদিত Essays and Poems প্রকাশিত হয়। এতে ভেরির সনেট ও প্রবন্ধ স্থান পায়। এমারসন The Dial পত্রিকায় ভেরির কবিতার প্রশংসা করেন। এই গ্রন্থ ভেরির সাহিত্যিক পরিচয় গড়ে তোলে।

১১. ভেরি শেক্সপিয়রীয় সনেট রচনায় দক্ষ ছিলেন। তাঁর সনেটগুলো ধর্মীয় ও প্রকৃতি বিষয়ক। তিনি দাবি করতেন এগুলো তাঁর নিজের সৃষ্টি নয়, বরং দিব্য শক্তির মাধ্যমে আসে। তাঁর কবিতায় সরলতা ও আধ্যাত্মিক গভীরতা লক্ষণীয়।

১২. ট্রান্সেন্ডেন্টালিস্টদের মধ্যে ব্রনসন অ্যালকট ও এলিজাবেথ পিবডি ভেরিকে সমর্থন করেন। অ্যালকট তাঁকে “ঈশ্বর-উন্মাদ” বলে বর্ণনা করেন কিন্তু তাঁর আধ্যাত্মিকতার প্রশংসা করেন। ভেরি ট্রান্সেন্ডেন্টালিজমের চরম রূপকে বাস্তবে প্রয়োগ করেছিলেন।

১৩. ১৮৩৯ সালের পর ভেরি বিশ্বাস করতেন যে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ভূমিকা শেষ হয়েছে। তিনি সেলেমে ফিরে যান এবং বোনদের সঙ্গে পিতার বাড়িতে নির্জন জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি খুব কম লিখতেন।

১৪. ১৮৪৩ সালে ইউনিটারিয়ান যাজক সমিতি তাঁকে যাজকত্বের অনুমতি দেয়। কিন্তু লজ্জাশীলতার কারণে তিনি কোনো স্থায়ী প্যারিশ পাননি। অল্প কয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে যাজকত্ব করেন। তাঁর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে কবি ও রহস্যবাদী হিসেবে।

১৫. সেলেমে তাঁর দৈনন্দিন জীবন ছিল সাধারণ। সকালে পড়াশোনা, বিকেলে একাকী হাঁটা। হাঁটার সময় কবিতার চিন্তা আসত। ফিরে এসে তিনি তা লিখে রাখতেন। এই নির্জন জীবন তাঁর আধ্যাত্মিক চিন্তাকে আরও গভীর করে তোলে।

১৬. ভেরি জীবনের শেষ চল্লিশ বছর প্রায় নীরবে কাটান। তিনি খুব কম লিখতেন এবং প্রকাশ করতেন না। তাঁর সৃজনশীল জীবন মূলত ১৮৩৭-১৮৪০ সালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর তিনি নিজেকে সমাজ থেকে সরিয়ে নেন।

১৭. ৮ মে ১৮৮০ সালে সেলেমের পৈতৃক বাড়িতে ৬৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু তখনকার সাহিত্য জগতে খুব একটা আলোড়ন তৈরি করেনি। তবে পরবর্তীকালে তাঁর কবিতা নতুন করে আবিষ্কৃত হয়।

১৮. মৃত্যুর পর ১৮৮৩ সালে উইলিয়াম পি. অ্যান্ড্রুজ সম্পাদিত তাঁর ধর্মীয় কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৮৮৬ সালে জেমস ফ্রিম্যান ক্লার্ক সম্পাদিত সম্পূর্ণ সংস্করণ বের হয়। এই সংকলনগুলো তাঁর কবিতাকে সংরক্ষণ করে।

১৯. জোন্স ভেরি ট্রান্সেন্ডেন্টালিজমের এক চরম উদাহরণ। তিনি এমারসনের দর্শনকে আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করে নিজের জীবনে প্রয়োগ করেছিলেন। অনেকে তাঁকে “পাগল” বলেছে, আবার অনেকে তাঁকে “গভীরভাবে সুস্থ” বলে প্রশংসা করেছে।

২০. ভেরির কবিতা আজও সরলতা, আধ্যাত্মিক গভীরতা ও সততার জন্য পঠিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে ট্রান্সেন্ডেন্টালিজম শুধু দর্শন নয়, বরং কারও কারও কাছে জীবন্ত অভিজ্ঞতা হতে পারে। তাঁর দিব্য দাবি তাঁকে সাহিত্য ইতিহাসে অনন্য করে রেখেছে।

জোন্স ভেরি (১৮১৩–১৮৮০)

ভূমিকা

জোন্স ভেরি ছিলেন উনিশ শতকের আমেরিকান সাহিত্য ও দর্শনের এক অনন্য ও রহস্যময় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ট্রান্সেন্ডেন্টালিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কবি, প্রাবন্ধিক, যাজক ও রহস্যবাদী। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন, ব্রনসন অ্যালকট ও এলিজাবেথ পামার পিবডির মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় তাঁর দাবির জন্য—তিনি বলতেন, তাঁর লেখা সনেটগুলো তাঁর নিজের নয়, বরং পবিত্র আত্মা বা দিব্য শক্তির দ্বারা “যোগাযোগ” করা বা নির্দেশিত। এই চরম রহস্যবাদী অভিজ্ঞতা তাঁকে সমকালীনদের কাছে “ঈশ্বর-উন্মাদ” বা “অস্বাভাবিকভাবে পবিত্র” করে তুলেছিল। তাঁর জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত সৃজনশীল বিস্ফোরণের পর দীর্ঘ নির্জনতার।

জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি

জোন্স ভেরি ২৮ আগস্ট ১৮১৩ সালে ম্যাসাচুসেটসের সেলেম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ছয় সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তাঁর পিতা-মাতা প্রথম চাচাতো ভাই-বোন ছিলেন এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি (out of wedlock)। মা লিডিয়া ভেরি ছিলেন আক্রমণাত্মক মুক্তচিন্তক—তিনি প্রকাশ্যে নাস্তিক্যবাদী মত প্রকাশ করতেন এবং বিবাহকে আইনি নয়, নৈতিক বন্ধন বলে মনে করতেন। বাবা জোন্স ভেরি (জ্যেষ্ঠ) ছিলেন একজন জাহাজের অধিনায়ক। ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের হাতে বন্দি হন এবং নোভা স্কটিয়ায় কারাবাস করেন। সেখান থেকে ফিরে ফুসফুসের রোগে মারা যান যখন জোন্সের বয়স প্রায় ১১ বছর।

শৈশবে জোন্স সমুদ্রযাত্রায় অনেক সময় কাটান। ১০ বছর বয়সে রাশিয়া যান, ১১ বছর বয়সে নিউ অরলিন্সে কেবিন বয় হিসেবে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে একাকীত্ব ও চিন্তাশীলতা গড়ে তোলে।

শৈশব, শিক্ষা ও প্রারম্ভিক প্রভাব

মায়ের নির্দেশে ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে পরিবারের দায়িত্ব নেন। প্রথমে নিলাম ঘরে কাজ করেন, পরে সেলেমের একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান হেনরি কেম্বল অলিভারের সহকারী হন। অলিভার তাঁকে জেমস ম্যাকিনটোশ প্রমুখ দার্শনিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং মায়ের নাস্তিক্যবাদী প্রভাব থেকে দূরে সরিয়ে আনেন।

কিশোর বয়সেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। সেলেমের একটি নতুন ইউনিটারিয়ান গির্জার উদ্বোধনে তিনি একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। তাঁর বোন লিডিয়াও পরবর্তীকালে লেখিকা হন।

হার্ভার্ড শিক্ষা ও সাহিত্যিক সূচনা

১৮৩৪ সালে হার্ভার্ড কলেজে ভর্তি হন। ১৮৩৬ সালে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক হন। কমেন্সমেন্টে “Individuality” শীর্ষক ভাষণ দেন। হার্ভার্ডে তিনি লর্ড বায়রন, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, গ্যেটে ও শিলার দ্বারা প্রভাবিত হন।

স্নাতকের পর গ্রিক ভাষার টিউটর নিযুক্ত হন এবং হার্ভার্ড ডিভিনিটি স্কুলে ভর্তি হন (ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেননি)। একই সময়ে মেইন, ম্যাসাচুসেটস ও রোড আইল্যান্ডে অস্থায়ী যাজকত্ব করেন। ১৮৩৭ সালে সেলেম লিসিয়ামে “Epic Poetry” বিষয়ে বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃতা এলিজাবেথ পিবডির দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি ভেরিকে রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

ধর্মীয় অভিজ্ঞতা ও “দিব্য অনুপ্রেরণা”র সময়কাল (১৮৩৭–১৮৩৮)

১৮৩৭ সাল থেকে ভেরির জীবনে এক গভীর রহস্যবাদী পরিবর্তন ঘটে। তিনি অনুভব করেন যে তাঁর মধ্যে এক “নতুন ইচ্ছা” কাজ করছে যা তাঁর নিজের নয়। একটি ট্রেনে তিনি গতির ভয় পান কিন্তু পরে বুঝতে পারেন যে তিনি “একটি দিব্য ইঞ্জিন” দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন যে পবিত্র আত্মা তাঁর মাধ্যমে কথা বলছে। তাঁর লেখা সনেটগুলোকে তিনি “যোগাযোগ করা” (communicated) বলে বর্ণনা করতেন। এমারসনকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন: “আপনি আমার নিজের কথা শুনছেন না, বরং পবিত্র আত্মার শিক্ষা শুনছেন।”

১৮৩৮ সালে তিনি নিজেকে “দ্বিতীয় আগমন” (Second Coming) বলে ঘোষণা করেন এবং অন্যদের “পবিত্র আত্মা ও অগ্নি দ্বারা বাপ্তিস্ম” দিতে শুরু করেন। হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের সঙ্গে বিতর্কে তিনি নিজেকে “অভ্রান্ত” ও “স্বর্গের মানুষ” বলে দাবি করেন। এই চরম আচরণের জন্য হার্ভার্ড প্রেসিডেন্ট জোসায়া কুইন্সি তাঁকে “নার্ভাস কলাপ্স” বলে অভিহিত করে টিউটরশিপ থেকে সরিয়ে দেন।

সেপ্টেম্বর ১৮৩৮ সালে তাঁকে ম্যাকলিন অ্যাসাইলামে (মানসিক হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক মাস ছিলেন। হাসপাতালে তিনি Hamlet নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন এবং রোগীদের শেক্সপিয়র ও কবিতা নিয়ে বক্তৃতা দেন। অক্টোবরে মুক্তি পেলেও তিনি তাঁর বিশ্বাস ত্যাগ করেননি।

এমারসন ও ট্রান্সেন্ডেন্টালিস্টদের সঙ্গে সম্পর্ক

এমারসন ভেরির প্রতিভাকে স্বীকার করেন এবং তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি বলেন, “এমন মন হারিয়ে যেতে পারে না।” ১৮৩৮ সালে এমারসন ভেরিকে কনকর্ডে আমন্ত্রণ জানান এবং ট্রান্সেন্ডেন্টাল ক্লাবের সভায় নিয়ে যান।

১৮৩৯ সালে এমারসন সম্পাদিত Essays and Poems প্রকাশিত হয়। এতে ভেরির সনেট ও প্রবন্ধ (Epic Poetry, Shakespeare, Hamlet) স্থান পায়। এমারসন The Dial-এ ভেরির কবিতার প্রশংসা করেন। তবে এমারসন মজা করে বলেছিলেন, “আত্মা কি ব্যাকরণ ও বানান জানে না?”—ভেরির দিব্য দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে।

অ্যালকট ভেরিকে “ঈশ্বর-উন্মাদ” বলে বর্ণনা করেন কিন্তু তাঁর আধ্যাত্মিক গভীরতার প্রশংসা করেন। পিবডি ও অন্যান্য ট্রান্সেন্ডেন্টালিস্টরাও তাঁকে সমর্থন করেন।

সাহিত্যকর্ম ও দিব্য দাবি

ভেরি প্রধানত শেক্সপিয়রীয় সনেট রচনা করতেন। ধর্মীয় ও প্রকৃতি বিষয়ক সনেট তাঁর বিশেষত্ব। তিনি দাবি করতেন যে এগুলো তাঁর নিজের সৃষ্টি নয়, বরং দিব্য শক্তির মাধ্যমে তাঁর কাছে আসে। তিনি লিখতেন যা “আসে” (what came to him) এবং নিজেকে কেবল বাহক মনে করতেন।

প্রধান গ্রন্থ: Essays and Poems (১৮৩৯) — এমারসন সম্পাদিত।

তিনি The Dial, Western Messenger ও স্থানীয় পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ করেন। জীবদ্দশায় তিনি শতাধিক সনেট লিখেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

পরবর্তী জীবন ও নির্জনতা

১৮৩৯ সালের মধ্যে ভেরি বিশ্বাস করতেন যে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ভূমিকা মাত্র ১২ মাস স্থায়ী ছিল এবং তা শেষ হয়েছে। ১৮৪৩ সালে ইউনিটারিয়ান যাজক সমিতি তাঁকে যাজকত্বের অনুমতি দেয়, কিন্তু তিনি কোনো স্থায়ী প্যারিশ পাননি। লজ্জাশীলতার কারণে তিনি অল্প কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে যাজকত্ব করেন।

১৮৪০-এর দশক থেকে তিনি সেলেমে বোনদের সঙ্গে পিতার বাড়িতে নির্জন জীবনযাপন করেন। সকালে পড়াশোনা, বিকেলে একাকী হাঁটা—এই ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন। এ সময় তিনি খুব কম লিখতেন। জীবনের শেষ চল্লিশ বছর প্রায় নীরবে কেটে যায়।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

৮ মে ১৮৮০ সালে সেলেমের সেই একই বাড়িতে ৬৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুর পর তাঁর কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়: ১৮৮৩ সালে উইলিয়াম পি. অ্যান্ড্রুজ সম্পাদিত ধর্মীয় কবিতার সংকলন (স্মৃতিকথাসহ) এবং ১৮৮৬ সালে জেমস ফ্রিম্যান ক্লার্ক সম্পাদিত সম্পূর্ণ সংস্করণ।

জোন্স ভেরি ট্রান্সেন্ডেন্টালিজমের এক চরম উদাহরণ। তিনি এমারসনের “স্ব-নির্ভরতা” ও “ঈশ্বরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ” ধারণাকে আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করে নিজের জীবনে প্রয়োগ করেছিলেন। অনেকে তাঁকে “পাগল” বলেছে, আবার অনেকে তাঁকে “গভীরভাবে সুস্থ” বলে প্রশংসা করেছে। তাঁর কবিতা আজও সরলতা, আধ্যাত্মিক গভীরতা ও সততার জন্য পঠিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে ট্রান্সেন্ডেন্টালিজম শুধু দার্শনিক আন্দোলন নয়, বরং কারও কারও কাছে জীবন্ত ও রূপান্তরকারী অভিজ্ঞতা হতে পারে।

জোন্স ভেরি আজও সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দিব্য ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে কবিতা রচনা করেছিলেন—যেখানে “আমি” নয়, “আত্মা”ই কথা বলে।

Post a Comment